আলিমগণের মতে এমন বান্দাদের শাস্তিই আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের জন্য বাকি রেখে দেন।
![]() |
| কিয়ামত |
রাসূল সা. বলেছেন, 'আল্লাহ তাঁর কোনো বান্দার কল্যাণ চাইলে আগে-ভাগে দুনিয়াতেই তাকে তার গুনাহ-খাতার জন্য কিছু শাস্তি দিয়ে দেন। আর কোনো বান্দার অকল্যাণ চাইলে দুনিয়ায় তার পাপের শাস্তিদান হতে বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তাকে তার পূর্ণ শাস্তি দেবেন।' (তিরমিযি : ২৩৯৬)
জগতে কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। উঠতে বসতে আমাদের গুনাহ হয়। ওয়াজিব ছুটে যায়। তাই আল্লাহ যার ভালো চান, কল্যাণ চান, তার পাপের শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। কারণ, আখিরাতের শাস্তির তুলনায় দুনিয়ার শাস্তি অত্যন্ত সহজ, নগণ্য।
হাদীসে যে শাস্তিদানের কথা বলা হয়েছে আলিমগণের মতে এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, বান্দাকে পরীক্ষায় ফেলা। এই পরীক্ষা আসতে পারে সম্পদের ওপর, এই পরীক্ষা আসতে পারে জীবনের ওপর, পরিবারের ওপর। এভাবে নানান পরীক্ষার মাধ্যমে গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত করা হয়। দুনিয়ার বালা মুসিবতের দ্বারা মুমিনকে আল্লাহ পবিত্র করে নেন। এমন বান্দাদের বিপদ আপদ তাদেরকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায়। বালা মুসিবতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তাওবাহ করে তাৎক্ষণিক। গুনাহের ওপর অটল থাকে না। তারা ক্ষমার পথ বেছে নেয়, তাই আল্লাহ তাআলাও দুনিয়াতেই তাদের ক্ষমার ব্যবস্থা করে দেন।
অন্যদিকে যে বান্দারা গুনাহের পথ বেছে নেয়, গুনাহ হয়ে গেলে অনুশোচনা করে না, উল্টো গুনাহ নিয়ে অহংকার করে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাদের হাতেই ছেড়ে দেন। আপনি দেখবেন এমন মানুষদের জন্য দিনকে দিন গুনাহের রাস্তা সহজ হয়ে যাচ্ছে। গুনাহের এমন সব দরজা তাদের সামনে খুলে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষরা কল্পনাও করতে পারে না। এভাবে তারা একের পর এক গুনাহে জড়াতে থাকে এবং মৃত্যু হয় গুনাহ করতে করতেই। আলিমগণের মতে এমন বান্দাদের শাস্তিই আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের জন্য বাকি রেখে দেন। কারণ, মওত ছাড়া তাদের টনক নড়ে না।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর পথে ফিরে আসার তাওফীক দান করুক।

