নেক মায়ের নেক সন্তান
![]() |
| নেক মায়ের নেক সন্তান |
কিছুদিন পূর্বে এক ভাই আমাকে ঘটনাটি শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, এক ব্যক্তির সঙ্গে গাড়িতে সফর করছিলাম। লোকটি টিকিট কাটেনি। আমাদের সঙ্গে তার দুজন সন্তানও আছে। আমরা যখন একটি সেতুতে উঠছিলাম, সন্তানেরা বলতে আরম্ভ করল— "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।'
তিনি বলেন, আমি তাদের দিকে তাকালাম। আমি জানি যে, রাসুলুল্লাহ সা. সফরে উঁচুতে ওঠার সময় ‘আল্লাহু আকবার' বলতেন এবং কোনো নিচুভূমিতে নামার সময় বলতেন 'সুবহানাল্লাহ'। তিনি বলেন, ছেলে দুজন সর্বদা তাকবিরই পড়তে থাকল। সফরেও এবং শহরেও। যখন কোনো উঁচু স্থানে উঠতাম, তারা তাকবির বলতে শুরু করত।
আমি তাদের পিতার দিকে তাকিয়ে বললাম, 'জনাব, আল্লাহ তাআলা আপনাকে নেককাজের তাওফিক দান করেন। আপনি আলেমও নন, আবার আপনি টিকিটও কাটেননি। মাশাআল্লাহ! আপনার সন্তানেরা সুন্নাতের অনুসরণ করছে। আপনার এমন উদ্যোগের জন্য আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।'
লোকটি বলল, “আল্লাহর কসম, শাইখ। এটা তাদের মায়ের কৃতিত্ব। আমি এমন স্ত্রী পেয়েছি, যে একাই গোটা গোত্রের সমান।'
শাইখ : তা কীভাবে?
সন্তানদের পিতা : তারা যেগুলো বলছে, তার মা তাদেরকে মুখস্থ করিয়েছে। ঘুমের পূর্বে যা পড়তে হয়, ঘুমের পর যা পড়তে হয়, খাবারের পূর্বে যা পড়তে হয়, খাবারের পরে যা পড়তে হয়, বাথরুমে প্রবেশের পূর্বে যা পড়তে হয় এবং বাথরুম থেকে বের হয়ে যা পড়তে হয় ইত্যাদি তাদের মা-ই তাদেরকে শিখিয়েছে। এভাবে অন্যান্য জিকিরও শিখিয়েছে।'
সন্তান যখন এভাবে বেড়ে ওঠে যে, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রাখে, আল্লাহর নির্দেশের প্রতি খেয়াল রাখে, তাঁর নিষেধগুলো পরিহার করে চলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সন্তানের মুখ দিয়ে পথে-ঘাটে এধরনের জিকির বের হতে থাকবে। এই সন্তান বড় হলে তার মুখ দিয়ে কখনো খারাপ কথা শুনতে হবে না, পিতা-মাতার ওপর দিয়ে সন্তান জোরে কথা বলতে পারবে না, পিতা-মাতাকে গালি দিতে পারবে না।
প্রিয় ভাই-বোন, এই যে, এ বিষয়গুলোর প্রতি যদি আমরা লক্ষ রাখি, জানতে পারব, আমার পূর্বসূরিগণ সন্তানের সঙ্গে কী আচরণ করেছেন। কখনো তাদেরকে উদাস ছেড়ে দেননি; বরং সর্বদা সন্তানের প্রতি লক্ষ রাখতেন এবং তাদেরকে যাবতীয় নোংরামি থেকে হেফাজত করতেন।
তাদের ইতিহাস পড়লে এগুলো জানতে পারবেন, অমুকের ছেলে অমুক সাত বছর বয়সে কুরআন হিফজ করেছে, অমুক নয় বছরে কুরআন হিফজ করেছে, অমুক ১৪ বছর বয়সে মুফতি হয়ে ফতোয়া দিয়েছে। তো, এর পেছনে রয়েছে, পিতামাতার নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ দীক্ষা। যা তাদেরকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী রচিত 'গল্পগুলো হৃদয়ছোঁয়া' বই থেকে।

